Flickr Gallery

Sunday, July 21, 2019

অথ একুশে জুলাই শহীদ দিবস কথাঃ বঙ্গপুরাণ


অঙ্গুলিদ্বারা জিহ্বা উলটা করিয়া হুটকার শব্দ নিক্ষেপ করিয়া পন্ডিত হুতোমকে সভায় অবতরণ করিবার বার্তা প্রেরণ করিলে পক্ষবিস্তারপূর্বক সর্বলোকগামী, সর্বজ্ঞানধারী, শুদ্ধাচারী পন্ডিত হুতোম পৎপৎ শব্দ সহযোগে সভাস্থলের ওপরের ঘুলঘুলিতে আসন গ্রহণ করিলেন। সভাসদগণ গগনচারী হুতোমের আগমনে উচ্ছ্বসিত হইয়া জয়শ্রী হুতোম ধ্বনিতে সভাস্থল পরিপূর্ণ করিলে হুতোম বেজায় প্রসন্ন হইয়া রাজা জনার্দনকে কহিলেন, “হে রাজাধিরাজ জনার্দন আমি দিগন্ত হইতে আপনার সকাশে আগত হইলাম। এক্ষণে কি কারণে আমাকে স্মরণ করিলেন কহিলে অদ্য আপনার জিজ্ঞাসা নিবারণে ইচ্ছুক হইব।”

রাজা জনার্দন করজোড়ে হুতোমাদেশ কর্ণগোচর করিয়া কহিলেন, “হে পক্ষীরাজ, দেবলোকগামী, সুমতি হুতো্ম, অদ্য আপনি আমাদিগকে একুশে জুলাই দিবসটি বিস্তারপূর্বক বর্ণনা করিয়া আমাদিগের জ্ঞানবর্ধন করিলে উপকৃত হইব। কি কারণেই বা দিবসটির অপর নাম শহীদ দিবস হইল তাহাও বর্ণনা করুন।”

দশলোকাচারী হুতোম ঘুলঘুলি হইতে সিংহাসনের ধ্বজার উপর অবতরণ করিয়া কহিতে লাগিলেন, “শুন হে জ্ঞানপিপাসু রাজেন্দ্রপতি জনার্দন, পুরাকালে বঙ্গবর্ষে এই দিবসটি দুষ্কৃতকারীদিগের মহোৎসবের দিবস ধার্য হইয়াছিল। বঙ্গবর্ষের তৎকালীন নরনারায়ণের সেবায় সর্বদা ব্রতশীল কুশল রাজা জ্যোতিবসুকে সিংহাসনচ্যূত করিবার নিমিত্ত মদ্যপ, লুন্ঠনকারী, পাপাচারী, হিংসাকাঙ্খী প্রজাসকল একত্র হইয়া এই দিবসে কলকাতা জনপদে ধুন্ধুমার যজ্ঞ সম্পন্ন করিয়াছিল।”
“হে জনার্দন, কথিত আছে ষড়যন্ত্রকারী, রাষ্ট্রবিদ্বেষী ও জনশ্রীকাতর প্রজাসকল বুদ্ধিভ্রষ্ট হইয়া এই যজ্ঞ সমাপনে অগ্নুৎপাদনকারী যন্ত্রাদি সহযোগে কলকাতা জনপদকে তাহাদের যজ্ঞভূমিতে রূপান্তরিত করিয়াছিল। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাহারা এই যজ্ঞভূমিতে দর্পভরে চারণ করিয়া শরাদি ও প্রস্তরাদি বর্ষণপূর্বক সৈন্য, সেনাপতি, মন্ত্রী, অমাত্য ও সাধারণ জনসাধারণের মনে ব্যাপক ভীতিসঞ্চার করিয়াছিল। তৎকালীন কংগ্রেস গোষ্ঠীর অন্দরে পালিত মমতাসুর নাম্নী এক বিদ্রোহিনী বঙ্গবর্ষের দুষ্কৃতকারীদের সহিত সংমিলিত হইয়া একুশে জুলাই নামক একটি ধুন্ধুমার যজ্ঞ সম্পন্ন করিয়াছিল।”

“হে, মহাত্মা জনার্দন, উক্ত দিবসে শতাধিক স্বয়ংক্রিয় যান পুড়িয়াছিল। সহস্রাধিক সৈন্য আহত হইয়া চিকিৎসাধীন হইয়াছিল। অগ্নিশিখা কলকাতা জনপদমানসে ত্রাস সৃষ্টি করিয়াছিল। ধূম্ররাজি বিকট দৈত্যাকার রূপ ধারণ করিয়া অপরাহ্ণের উজ্জ্বল সূর্যকে গ্রাস করিয়াছিল। মমতাসুরকৃত এই যজ্ঞে সমপন্থী কিছু নরাধম বিপ্লবী মৃত্যুবরণ করিয়াছিল। পরবর্তীকালে মৃতদেহের ওপর পদচারণ করিয়া রাজনীতির সূত্রপাত স্মরণ করিতে এই দিবসটি পালিত হইয়া আসিতেছে। পরবর্তীকালে বিদ্রোহিনী মমতাসুর বঙ্গেশ্বরী হইলে এই দিবসটি ডিম্ভাত দিবস আখ্যা পাইয়াছিল। গরীব জনতা দূরদূরান্ত হইতে আগত হইয়া ডিম্ভাত ভক্ষণ করিয়া আনন্দলাভ করিত। ইহারা বঙ্গেশ্বরী মমতাসুরের গুণকীর্তন করিয়া উৎসব পালন করিত।”

এইরূপ কহিতে কহিতে উষা প্রস্ফূটিত হইবার নিমিত্ত বাতাবরণ অবগত হইলে পন্ডিত হুতোম নিঃশব্দে সভাস্থল ত্যাগ করিলেন। রাজা জনার্দন ও সভাসদগণ হেঁটমুন্ড হইয়া প্রণামপূর্বক সভাত্যাগ করিলেন।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
বাংলা ব্লগ জগতের সিন্ধুতে আমরাও একটা বিন্দু। নেট ঘেঁটো বাঙালির আপ্যায়ণে বড় হচ্ছে। শৌভিকের লেখা পড়তে এই ব্লগে যান LEKHASHAUBHIK.BLOGSPOT.COM