Flickr Gallery

আমার এখন সেলফোবিয়া রোগ হয়েছে


ডাক্তারিতে যার তার পাশে ‘টিস’ লাগিয়ে দিলে একটা রোগ বাধিয়ে দেওয়া যায়। হেপাটাইটিস, কঞ্জাক্টিভাইটিস, সাইনোসাইটিস, অস্টিওমায়েলাইটিস, সিস্টাইটিস এবং অসংখ্য। সেলফি সংক্রান্ত রোগের নাম রাখা যাক সেলফাইটিস। এই রোগের কারণ, তার সংক্রমণ, তার প্রভাব ও প্রতিকার ইত্যাদি নিয়ে গবেষণার নাম রাখা যাক সেলফোলজি। সেলফোলজি নিয়ে পড়াশোনা করার জন্যে আপনাকে ফেসবুকের ভেতর ঢুকে ঘাপটি মেরে বসে থাকতে হবে। ইনস্টাগ্রাম আর টুইটারে হাবুডুবু খেতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপে গিয়ে স্ট্যাটাস আপডেট দেখতে হবে। ঘনঘন মোবাইল খুলে এইসব সোশ্যাল সাইটগুলো স্ক্রল করতে হবে। দেখবেন রং। দেখবেন রঙ্গ।

অযোধ্যায় এবার আমার আফিম খাওয়ার মতো অনুভূতি হল


পুরী গিয়ে সাহেবদের সঙ্গে চায়ের দোকানে বসে মটর দানার মতো এক টুকরো আফিম চুষতে চুষতে চা না খেলে আফিমের গুণ সম্পর্কে আমার কোনদিন অনুভূতি হত না। সেই দিন আফিম খেয়ে নেশার ঘোরে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম আমার বগলের তলায় লোমফোঁড়ার ব্যথাটা। ঘোর কাটতে না কাটতে আবার ব্যথা শুরু হয়ে গেল। ব্যথা ভোলার জন্যে আবার দৌড়লাম সেই চায়ের দোকানে।

ভারত বেদের আমলে ফিরে যাবে বলছে



দেশটাই বদলে গেছে। এখন গোরু অক্সিজেন ছাড়ে। এখন আমরা মনে করি, গণেশের ধড়ে হাতির মাথা কোন প্লাস্টিক সার্জন বসিয়েছিলেন। আমাদের বিশ্বাস, নিউটনের থিয়োরি ব্রহ্মগুপ্তের তত্ত্বের টুকলি! ডারউইনের তত্ত্ব ভুল। প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানী হকিং নাকি বলে গেলেন যে বেদের মধ্যেই আইনস্টাইনের শক্তির তত্ত্ব আগেই ব্যাখ্যা করে রেখেছেন আমাদের দেশের মুনিরা। ত্রিপুরার নতুন মুখ্যমন্ত্রী বললেন মহাভারতের যুগে ইন্টারনেট ব্যবস্থা কায়েম ছিল। শাসক দলের বড় বড় মন্ত্রীরা বিজ্ঞানের এই কল্পতরু ব্যাখ্যা দিয়ে গল্পের গোরু গাছে চড়িয়ে দেওয়ার সু্যোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না।

মন্ত্রী হংসরাজ গঙ্গারামের কাউ স্যাংচুয়ারি বা গোবন প্রোজেক্ট


জনৈক গোচিন্তককে চিনতেই আমার আজকের এই প্রতিবেদন। গোরু এখন রাজনীতির অভিনব হাতিয়ার। গোরুই আমাদের ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। গোবর আমাদের উন্নয়নের হাতিয়ার। কেন্দ্র সরকার ও বেশ কতকগুলি রাজ্য বর্তমানে বুড়ো গোরুর পুনর্বাসন নিয়ে নিজেদের সুচিন্তিত মতামত আদান প্রদান করছেন। সংসদেও গোধ্বনি শোনা যাচ্ছে। সমস্যার সমাধানের উপায় এবং তার জন্যে অর্থব্যয় কত হতে পারে সেই সম্বন্ধে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হংসরাজ গঙ্গারাম আহির কেন্দ্র সরকারের কাছে একটি প্রোজেক্ট জমা দিয়েছেন। গোরু পুনর্বাসনের জন্যে জঙ্গলের শরণাপন্ন হতে পারে কেন্দ্র।

এবার যে যার পরের চরকায় তেল দিন


প্রায় বছর পনের আগে একটা হিন্দি সিনেমার কথা মনে পড়ছে। সেই সিনেমার নায়ক তার ঘরের দেওয়ালে বিভিন্ন পোশাক পরিহিত ছবি টাঙিয়ে রাখত। সেই সিনেমার নায়িকার সামনে সে একটা ভেক ধরে ঘুরত। নায়িকা ভাবত তার সাধের প্রেমিক বুঝি কোন দাপুটে কেউকেটা। তবে নায়ক একদিন ধরা পড়ে গেল নায়িকার হাতে যেদিন নায়িকা সেই সিনেমার নায়কের শোওয়ার ঘরের দেওয়ালে উকিল্, ডাক্তার, পুলিশ, প্রফেসার বা নেতাদের মতো পোশাক পরে সেজেগুজে ছবি দেখতে পেল। সেই আমলে গ্রামের মেলায় গেলে স্টুডিওতে বিশাল কোন নায়কের ঘাড়ে হাত দিয়ে ফটো তোলা যেত। বিভিন্ন পোশাক পরেও ফটো তোলানো যেত। এখন আর এসব করতে হয়না। এখন ফোটোশপের মাধ্যমে যা খুশি করা যায়। ছেলে ছোকরারা এসব করেও। অনেক অনেক মজার মজার ছবি তৈরি করে। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীও তাই করছেন।

বিরসা মুণ্ডার জীবন কথা

ঝাড়খণ্ডের প্রায় সব লোকই আদিবাসিদের এই রক্ত ঝরানো সংঘর্ষের বছরগুলির কথা ভুলে গেছেন। রাঁচিতে লালপুর থেকে কোকর যাওয়ার রাস্তায় ডিস্টিলারি পুল পর্যন্ত বসে তরকারি আর মাছের বাজার। মাছের বাজার শেষ হলেই বিরসার সমাধিস্থল। এখন বিরসার জন্মলগ্নে শসকরা এসে তাঁদের পসধূলি দিয়ে বিরসার সমাধি ধন্য করে দিয়ে যান। তাছাড়া সারা বছর বিরসার সমাধিতে আগাছা ভরে থাকে। মন্ত্রীরা আর নেতারা এসে একগাদা গাঁদা গুলের মালা ছড়িয়ে বলেন, বিরসা মুণ্ডাঅমর রহে। বিরসা ভগবান কি জয়।

আদিবাসিদের বিদ্রোহ সূচী

পলাশির যুদ্ধ ভারতীয় ইতিহাসের এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এই সময়ে জমিদারদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের অধিকার মোগল বাদশাহদের হাত থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে চলে যায়। সেই সময়ে ঝাড়খন্ডে একেকজন রাজা নিজের নিজের শক্তি মতো জমির দখলদারি নিয়ে রাজত্ব চালাত। এই রাজারা ছিল স্বাধীন। আলাদা আলাদা রাজার আলাদা আলাদা বিচার। আলাদা আলাদা ব্যবস্থা। আলাদা ন্যায়। সেই ঝাড়খন্ডি রাজাদের সৈন্যবল থাকতরাজারা মোগল বাদশাহকে নজরানা দিত।

মোল্লার বিষয়ে বাংলায় সোজা কথা

বলা হয়, মোল্লা ছিলেন তুরস্কের আকশেহরের বাসিন্দা। বিভিন্ন ধরণের মজার গল্পের সঙ্গে নাসিরুদ্দিন মোল্লার নাম জড়িয়ে আছে বহুকাল ধরেই। এখনো সেই ধারা চলে আসছে। নাসিরুদ্দিনের প্রতিটি গল্পই দুর্দান্ত বুদ্ধিদীপ্ত। গল্পের কোথাও নাসিরুদ্দিন অত্যন্ত বোকা। আবার কোথাও প্রচন্ড চালাক। চালাক বোকা যাই হোন না কেন নাসিরুদ্দিনের প্রতিটা গল্পেই কোন না কোন সামাজিক বার্তা থাকে। প্রতিটি গল্পই নাসিরুদ্দিনের ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্যের মাধ্যমেই শেষ হয়। পৃথিবীতে নাসিরুদ্দিন মোল্লার মজার গল্পগুলো ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছে। এমনকি ইউরোপ ও আমেরিকাতেও নাসিরুদ্দিন মোল্লার গল্প জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। আফ্রিকাতে নাসিরুদ্দিনের গল্পের জনপ্রিয়তা আছে। আমার এই ব্লগে পাঠকরা তারও কিছু প্রতিচ্ছবি দেখতে পারবেন। আগেই বলেছি নাসিরুদ্দিনের গল্পগুলো বুদ্ধিমত্তার পরিচয় বহন করে। এছাড়াও গল্পগুলোতে মজার ছলে দার্শনিক বার্তাও থাকে। 

বাছাই করা মোল্লার সাত গল্প

মোল্লাকে ধার দেয়না কেউ

একদিন অন্য এক শহরে নাসিরুদ্দিন মোল্লা এক অজানা পথচারীর সঙ্গে আড্ডা জমিয়ে ছি্লেন। গল্প করতে করতে মোল্লা তাকে জিজ্ঞেস করল, “আপনার ধান্দাপানি ভাল চলছে তো।”

লোকটা খুশি হয়ে উত্তর দিল, “তা আপনাদের দোয়ায় ভালই চলছে।”

“ঠিক আছে। ঠিক আছে। আরো দোয়া দেওয়া যাবে। আপনার কাছে কি একশো মোহর ধার পাওয়া যাবে?”

পাগড়িটা কার?

মোল্লা একবার তার এক নতুন বন্ধুকে আকশেহর ঘুরে যেতে নেমন্তন্ন করলেন। বন্ধু এসে হাজির। মোল্লা তাঁর বন্ধুর সঙ্গে শহরের লোকজনদের পরিচয় করাবেন বলে সেজেগুজে পাগড়ি পরে বন্ধুকে নিয়ে বের হলেন।

“চলো,” নাসিরুদ্দিন বললেন, “আজ আমার কিছু পরিচিত বন্ধুর সঙ্গে তোমার তোমার পরিচয় করিয়ে দিই।”

বন্ধু বলল, “ঠিক আছে চলো। কিন্তু তোমার মতো একটা পাগড়ি আমাকেও দাও। আমিও তোমার মতো পাগড়ি পরব।”
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
বাংলা ব্লগ জগতের সিন্ধুতে আমরাও একটা বিন্দু। নেট ঘেঁটো বাঙালির আপ্যায়ণে বড় হচ্ছে।