Flickr Gallery

বাজেট ২০১৯ একটি পজিটিভ বাজেটঃ আউল ওয়াচ

বাজেটের পজিটিভ দিকটা কেউ দেখতে পাচ্ছেনা কেন?
এই বাজেটে মোবাইল চার্জারের দাম কমে গিয়ে খুব ভাল হল। কেন্দ্র সরকার সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে চার্জারের দাম কমিয়ে দিয়ে মানুষের অনেক সুরাহা করল। আগে যারা একটা চার্জার রাখত এবার তারা দুটাকা দাম কম দেখে আট দশখানা চার্জার কিনে ফেলতে পারবে। এর ফলে চার্জার বিক্রি বেড়ে যাবে। চাহিদা পূরণের জন্যে মোবাইল চার্জারের উৎপাদন বাড়তে বাধ্য। এবং কর্মসংস্থান হতে বাধ্য। অর্থনীতির এই সূক্ষ্ম দিকটা না দেখেই অনেকে রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে। আমি ছাড়া এই ব্যাপারটা কেউ বুঝতে পারছেনা।

হুল বা সাঁওতাল বিদ্রোহ এবং সিদো ও কানহো


আজ হুল দিবস। ১৮৫৫ সালের এই দিনে সিদো, কানহো’র নেতৃত্বে অধুনা ঝাড়খন্ড রাজ্যের সাহেবগঞ্জ জেলার ভগনাডিহ গ্রামের ইংরেজ ও ইংরেজ সমর্থিত জমিদারদের বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহ শুরু হয়। অনুমান করা হয় এই বিদ্রোহ দমন করতে ইংরেজরা ২০ হাজার আদিবাসীকে নির্বিচারে হত্যা করেছিল। এই বিদ্রোহের নাম হুল বিদ্রোহ বা সাঁওতাল বিদ্রোহ।

সাঁওতাল পরগণা তখন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির আওতায় ছিল। পাহাড় ও জঙ্গল ঘেরা এই এলাকায় সাঁওতাল, মালপাহাড়িয়া ও অন্যান্য আদিবাসীরা এখানে চাষাবাদ করে জীবন যাপন করত। জঙ্গলে উৎপন্ন বিভিন্ন পণ্য তারা বিক্রি করত আর শিকার করত। সদ্য রেল লাইন পাতার কাজ শুরু হয়েছে তখন সেই অঞ্চলে। এই অঞ্চলের সাঁওতালরা রেল লাইন পাতার কাজে শ্রমিকের কাজও করতে শুরু করেছে।

হে মোর দুর্ভাগা দেশ যাদের করেছ অপমান....

আপনাদের ‘নঈ ইন্ডিয়া’ কেমন আছে দাদা! একমাস হয়ে গেল। এরমধ্যেই নতুন ইন্ডিয়ার একটা ঝলক দেখুন। রেল কোম্পানি তার প্রিমিয়াম ট্রেনগুলোকে বেচে দেবে শোনা যাচ্ছে। ‘দুর্বল’ ব্যাঙ্কগুলো বিক্রি হয়ে যাবে বলা হচ্ছে। বীমা কোম্পানিগুলোও নাকি বেসরকারি হাতে দিয়ে দেওয়া হবে। বিএসএনএল লাটে উঠেছে। ইন্ডিয়া পোস্ট ঘাটে ওঠার জন্যে তৈরি হচ্ছে। সরকারি কোম্পানিগুলো বেচে দিয়ে সরকার যে টাকা রোজগার করবে তা দিয়ে কি কি হবে? জনকল্যাণ? শৌচালয়? গঙ্গা পরিষ্কার? কি জানি ভাই। অর্থনীতি বুঝিনা।

শব্দকল্পদ্রুম ভাগ ২ঃ গোরুই আসল প্রোলেতারিয়েত



গোরু একটি প্রোলেতারিয়েত প্রাণি। গোরুর নিজের বলতে কিছুই নেই। গোয়ালা তাকে দড়ি দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। আর সকাল বিকেল দোহন করে। তাহলে গোয়ালাকে বুর্জোয়া বলা যেতে পারে। বুর্জোয়া গোয়ালা গোরুকে যেটুকু খেতে দেয় তার অনেক বেশি লাভ করে দুধ বেচে। লাভের অংশে গোরুর কোন ভাগ নেই। সমাজবিজ্ঞানী মার্ক্স গোরুদরদী ছিলেন। তিনি ‘ক্যাপিটাল’ বইটিতে এই গোয়ালার লাভ লোকসান নিয়ে লিখেছিলেন। তৎকালীন ইউরোপিয়ান সমাজের পুঁজির আবির্ভাব ও গোয়ালার সঙ্গে গোরুর দ্বন্দ্ব নিয়ে তিনি অনেক কথা বলেছেন। গোয়ালা যদি বুর্জোয়া হয় তবে ময়রা মানে ক্যাপিটালিস্ট।

নেতা হওয়ার উপায় শিখুন

আপনি কি নেতা হতে চাইছেন? তবে আমার কথা মেনে চলুন। আমি তিন সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে বড় নেতা বানিয়ে বাজারে ছেড়ে দেব। মাইরি বলছি।

প্রথম সপ্তাহে আপনি রবীন্দ্রনাথ, রামমোহন, বিদ্যাসাগর জাতের লোকগুলোকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি দিন। আপনার পাড়ার হাতকাটা গণেশ স্কুলে যায়নি। আর রবীন্দ্রনাথও স্কুলে যাননি। তাই গণেশের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ টাইপের এলিমেন্ট গুলিয়ে দিয়ে তার মধ্যে খানিকটা রাজনীতি মিশিয়ে এক কাপ করে রোজ খাওয়াতে থাকুন। হনুমান আর বাঁদরকে একসারিতে বসিয়ে দিন। সারা পৃথিবী যাদের সম্মান করে তাদের অসম্মান করুন। এইরকম না করলে আপনি বড় নেতা হতে পারবেন না। এর ফলে কালচার আর ভালচার আপনার কাছে এক মনে হবে।

গল্পঃ বিদ্রোহী কুকুরের পাল ও পাড়ার পঞ্চা

নেড়ি কুকুরটার নাম টমি। পঞ্চা টমির পেটে ক্যাঁত করে একটা লাথি মারতেই কুকুরটা লেজ পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দৌড় মারল। সেই দেখে পঞ্চা আনন্দ পেল। একদিন টমি ক্ষিদের জ্বালায় পঞ্চার বাড়ির হেঁসেলে ঢুকে হাঁড়িতে মুখ ঢুকিয়ে ভাত খেয়ে ফেলেছে। তারপর থেকেই পঞ্চার খুব রাগ। দেখলেই তাড়া করে। লাথি না মেরে শান্তি পায়না। টমি তিনকড়ির সেলুনের পেছনে আসশ্যাওড়া গাছের ঘন ঝোপের মধ্যে এমন ভাবে লুকিয়ে থাকে যে অন্য কুকুরও ওকে দেখতে পায়না। শুধু ক্ষিদে পেলেই ছুঁকছুঁক করে। ঘুরঘুর করে। পঞ্চাকে ও খুব ভয় পায়।

৩৪ বছরে বাংলায় সিপিএম কচু করেছে


৩৪ বছর ‘রাজত্ব’ করে আপনারা কিছুই করতে পারেননি। আপনারা ল্যান্ড রিফর্মস দেখাচ্ছেন? যেসব রাজ্যে জমি এখনো জমিদারের হাতে আছে সেখানে মানুষ বেঁচে নেই নাকি? আপনারা কৃষিতে বিপ্লব এনেছেন? তাহলে চাষীরা এখন বেগুনের দাম পাচ্ছে না কেন? যেখানে আপনারা নেই সেখানেও চাষীরা বেগুন দুটাকা কিলো বেচে। তবে? আপনারা থেকেই বা কি করলেন এই রাজ্যে? আপনারা ৩৪ বছর ধরে আমাদের সচেতন করতেও পারেননি ঠিক করে। নাহলে আমরা কেন তৃণমূলকে ডাকলাম। নাহলে আমরা কেন বিজেপিকে ডাকলাম। বলুন দেখি! জবাব দিন। 

হনুমান তাড়ানোর গণতান্ত্রিক পদ্ধতি

গোবলয় তার বিস্তার লাভ করেছে। সিঁদ কেটে নয়, রীতিমতো ব্যান্ড বাজাতে বাজাতে বাংলার মাটিতে ঘাঁটি গেড়েছে। অনেকে অনেক রকম তত্ত্ব দিচ্ছেন। কেউ বলছেন, কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা হচ্ছে। কেউ বলছেন, সব সেটিং। কেউ বলছেন, বাংলায় কুস্তি আর দিল্লিতে দোস্তি। কেউ বলছেন, বাপের নামে রামের নাম। কেউ বলছেন, বামের জোরে রামের নাম। কিন্তু এই বাংলায় এখন নতুন সুর উঠেছে, তোমার নাম আমার নাম, জয় হনুমান, জ্যায়সিরাম।

লুম্পেন লেখক রচিত লুম্পেন চরিত

লুম্পেন জার্মান শব্দ। ১৮৪০ সাল নাগাদ এই শব্দটা কার্ল মার্ক্স ব্যবহার করতে শুরু করেন। তিনি প্রতিক্রিয়াশীল ও প্রতিবিপ্লবীদের সমালোচনা করতে এই শব্দটা ব্যবহার করতেন। শব্দটা ইংরেজি ভাষাতেও চলে এসেছে। ইংরেজি ডিকশনারিতে ‘লুম্পেন’ বোঝাতে বলা হচ্ছে যারা নির্বোধ এবং সুশিক্ষিত নয় এবং যারা তাদের অবস্থার পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনের কল্পনা ও চেষ্টায় নিরুৎসাহী। লুম্পেন শব্দটা এখন সারা পৃথিবীতে একটি সুপরিচিত শব্দ। কোথাও খুঁজে পেলামনা কিন্তু ‘লম্পট’ শব্দটার মধ্যেও কোথাও লুম্পেন লুকিয়ে আছে।

আরএসএস-এর মোদি প্রয়োগ ও বামপন্থী হুঁশিয়ারি

কেউ যেন ভুলেও না ভাবেন আমি তাত্ত্বিক। আমি এক আটপৌরে সাধারণ শ্রমিক। কে ভাল বলছে সেই মোহে লিখিনা। আমি জ্ঞান ছড়ানোর জন্যেও লিখছিনা। আমার চিন্তাকেই আমি ব্লগে লিপিবদ্ধ করি।

ছোটবেলা থেকেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন সঙ্ঘ সেবক।‘ফ্যাসিও’ বা কাষ্ঠ দন্ড এই দলেরও প্রতীক। ইউনিফর্মের রং কালো বা নীল নয়। ওটা খাঁকি আর সাদা। শপথ নেওয়ার ভঙ্গিমায় জার্মানি আর ইটালির ছাপ স্পষ্ট। সামনে আছে ওই দলের ‘মোদি প্রয়োগ’। ভারতের মানুষ এবার মন ভরে আশীর্বাদ দিয়ে আরএসএস-এর মোদি প্রয়োগের ঝোলা ভরিয়ে দিয়েছে। খুব ছোট বেলায় প্রধানমন্ত্রী আরএসএস-এর অফিসে প্রচারকদের চা বিলি করতেন। তাই তিনি চাওয়ালা বলে নিজেকে প্রচার করে মিথ্যে কিছু বলেননি। যদিও তিনি মিথ্যে ছাড়া কিছুই বলেননা। কিন্তু এমনভাবে বলেন যে বক্তৃতার মেঘে ঢাকা রাডার তাঁর কথা ধরতেই পারেনা। সবাই ভাবে উনিই সত্য বাকি সব মিথ্যা।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
বাংলা ব্লগ জগতের সিন্ধুতে আমরাও একটা বিন্দু। নেট ঘেঁটো বাঙালির আপ্যায়ণে বড় হচ্ছে।