Flickr Gallery

এবার যে যার পরের চরকায় তেল দিন


প্রায় বছর পনের আগে একটা হিন্দি সিনেমার কথা মনে পড়ছে। সেই সিনেমার নায়ক তার ঘরের দেওয়ালে বিভিন্ন পোশাক পরিহিত ছবি টাঙিয়ে রাখত। সেই সিনেমার নায়িকার সামনে সে একটা ভেক ধরে ঘুরত। নায়িকা ভাবত তার সাধের প্রেমিক বুঝি কোন দাপুটে কেউকেটা। তবে নায়ক একদিন ধরা পড়ে গেল নায়িকার হাতে যেদিন নায়িকা সেই সিনেমার নায়কের শোওয়ার ঘরের দেওয়ালে উকিল্, ডাক্তার, পুলিশ, প্রফেসার বা নেতাদের মতো পোশাক পরে সেজেগুজে ছবি দেখতে পেল। সেই আমলে গ্রামের মেলায় গেলে স্টুডিওতে বিশাল কোন নায়কের ঘাড়ে হাত দিয়ে ফটো তোলা যেত। বিভিন্ন পোশাক পরেও ফটো তোলানো যেত। এখন আর এসব করতে হয়না। এখন ফোটোশপের মাধ্যমে যা খুশি করা যায়। ছেলে ছোকরারা এসব করেও। অনেক অনেক মজার মজার ছবি তৈরি করে। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীও তাই করছেন।

বিরসা মুণ্ডার জীবন কথা

ঝাড়খণ্ডের প্রায় সব লোকই আদিবাসিদের এই রক্ত ঝরানো সংঘর্ষের বছরগুলির কথা ভুলে গেছেন। রাঁচিতে লালপুর থেকে কোকর যাওয়ার রাস্তায় ডিস্টিলারি পুল পর্যন্ত বসে তরকারি আর মাছের বাজার। মাছের বাজার শেষ হলেই বিরসার সমাধিস্থল। এখন বিরসার জন্মলগ্নে শসকরা এসে তাঁদের পসধূলি দিয়ে বিরসার সমাধি ধন্য করে দিয়ে যান। তাছাড়া সারা বছর বিরসার সমাধিতে আগাছা ভরে থাকে। মন্ত্রীরা আর নেতারা এসে একগাদা গাঁদা গুলের মালা ছড়িয়ে বলেন, বিরসা মুণ্ডাঅমর রহে। বিরসা ভগবান কি জয়।

আদিবাসিদের বিদ্রোহ সূচী

পলাশির যুদ্ধ ভারতীয় ইতিহাসের এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এই সময়ে জমিদারদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের অধিকার মোগল বাদশাহদের হাত থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে চলে যায়। সেই সময়ে ঝাড়খন্ডে একেকজন রাজা নিজের নিজের শক্তি মতো জমির দখলদারি নিয়ে রাজত্ব চালাত। এই রাজারা ছিল স্বাধীন। আলাদা আলাদা রাজার আলাদা আলাদা বিচার। আলাদা আলাদা ব্যবস্থা। আলাদা ন্যায়। সেই ঝাড়খন্ডি রাজাদের সৈন্যবল থাকতরাজারা মোগল বাদশাহকে নজরানা দিত।

মোল্লার বিষয়ে বাংলায় সোজা কথা

বলা হয়, মোল্লা ছিলেন তুরস্কের আকশেহরের বাসিন্দা। বিভিন্ন ধরণের মজার গল্পের সঙ্গে নাসিরুদ্দিন মোল্লার নাম জড়িয়ে আছে বহুকাল ধরেই। এখনো সেই ধারা চলে আসছে। নাসিরুদ্দিনের প্রতিটি গল্পই দুর্দান্ত বুদ্ধিদীপ্ত। গল্পের কোথাও নাসিরুদ্দিন অত্যন্ত বোকা। আবার কোথাও প্রচন্ড চালাক। চালাক বোকা যাই হোন না কেন নাসিরুদ্দিনের প্রতিটা গল্পেই কোন না কোন সামাজিক বার্তা থাকে। প্রতিটি গল্পই নাসিরুদ্দিনের ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্যের মাধ্যমেই শেষ হয়। পৃথিবীতে নাসিরুদ্দিন মোল্লার মজার গল্পগুলো ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছে। এমনকি ইউরোপ ও আমেরিকাতেও নাসিরুদ্দিন মোল্লার গল্প জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। আফ্রিকাতে নাসিরুদ্দিনের গল্পের জনপ্রিয়তা আছে। আমার এই ব্লগে পাঠকরা তারও কিছু প্রতিচ্ছবি দেখতে পারবেন। আগেই বলেছি নাসিরুদ্দিনের গল্পগুলো বুদ্ধিমত্তার পরিচয় বহন করে। এছাড়াও গল্পগুলোতে মজার ছলে দার্শনিক বার্তাও থাকে। 

বাছাই করা মোল্লার সাত গল্প

মোল্লাকে ধার দেয়না কেউ

একদিন অন্য এক শহরে নাসিরুদ্দিন মোল্লা এক অজানা পথচারীর সঙ্গে আড্ডা জমিয়ে ছি্লেন। গল্প করতে করতে মোল্লা তাকে জিজ্ঞেস করল, “আপনার ধান্দাপানি ভাল চলছে তো।”

লোকটা খুশি হয়ে উত্তর দিল, “তা আপনাদের দোয়ায় ভালই চলছে।”

“ঠিক আছে। ঠিক আছে। আরো দোয়া দেওয়া যাবে। আপনার কাছে কি একশো মোহর ধার পাওয়া যাবে?”

পাগড়িটা কার?

মোল্লা একবার তার এক নতুন বন্ধুকে আকশেহর ঘুরে যেতে নেমন্তন্ন করলেন। বন্ধু এসে হাজির। মোল্লা তাঁর বন্ধুর সঙ্গে শহরের লোকজনদের পরিচয় করাবেন বলে সেজেগুজে পাগড়ি পরে বন্ধুকে নিয়ে বের হলেন।

“চলো,” নাসিরুদ্দিন বললেন, “আজ আমার কিছু পরিচিত বন্ধুর সঙ্গে তোমার তোমার পরিচয় করিয়ে দিই।”

বন্ধু বলল, “ঠিক আছে চলো। কিন্তু তোমার মতো একটা পাগড়ি আমাকেও দাও। আমিও তোমার মতো পাগড়ি পরব।”

মোল্লার জোব্বা থেকে আরও পাঁচ


গাধার পিঠে উলটো বসে মোল্লা 

মোল্লা একবার গাধার পিঠে উলটো হয়ে বসে যাচ্ছিলেন। পাড়ার লোকেরা মোল্লাকে দেখে জোরে জোরে বলল, “আরে মোল্লা, তুমি উলটো হয়ে বসেছ কেন?” 

মোল্লা জবাব দিল, না রে ভায়া না। আমি ঠিকঠাক বসেছি। আমার গাধাটা উলটো দিকে চলছে।” 

পরের দিন আবার মোল্লা গাধার পিঠে। এবার গাধা যেদিকে যাচ্ছে মোল্লা সেইদিকে মুখ করে বসেছেন। পাড়ার লোকেরা মোল্লাকে দেখে মশকরা করে বলল, “আরে! কি ব্যাপার মোল্লা। আজ দেখছি তোমার গাধাটা উলটো দিকে যাচ্ছে!”

এবার মোল্লার পাল্লায় দার্শনিক

একবার এক বিখ্যাত পন্ডিত ও দার্শনিক আকশেহরে এসে গাধার পিঠে মোল্লাকে দেখতে পেয়ে বললেন, “মোল্লা সাহেব, আমি অন্য শহরের লোক, আমার ক্ষিদে পেয়েছে কিন্তু আশেপাশের কোন খাবারের ভাল দোকানের সন্ধান দাও।”

মোল্লা একটা দোকানের সন্ধান দিয়ে দিলেন।

দার্শনিক খুশি হয়ে বললেন, “মোল্লা তুমিও চলো তাহলে। আমার সঙ্গে কিছু খেয়ে নেবে।”

মোল্লা গদগদ হয়ে দার্শনিককে নিয়ে নামী একটা সরাইখানাতে গিয়ে বেয়ারাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করল আজকের স্পেশাল মেনু কি!

মোল্লার পড়শি আর নধর খাসি

নাসিরুদ্দিন মোল্লা একবার খুব যত্ন করে একটা খাসি পুষেছিলেন। নধরকান্তি খাসিটার ওপর পাড়াপড়শির অনেকদিন ধরেই লোভ ছিল। একদিন কয়েকজন পড়শি যুক্তি করে দল বেঁধে হানা দিল মোল্লার বাড়িতে। মোল্লাকে ডেকে বলল, “শুনেছ কি মোল্লা! আমাদের সবার জন্যে বড়ই দুঃসংবাদ আছে। এত শখের গাছপালা, বাড়িঘর, সহায়সম্পত্তি, তোমার প্রিয় গাধা, এমনকি তোমার এই নধর খাসিটাও আর থাকবেনা।সব শেষ হয়ে যাবে। বুঝলে মোল্লা।”

চালে চাপিয়ে মোল্লার শিক্ষা

একদিন নাসিরুদ্দিন ঘরে চালে উঠে চাল মেরামত করছিলেন। এমন সময়ে নিচের সদর দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। নাসিরুদ্দিন হাঁক পেড়ে বললেন, কি চাই এখানে?
লোকটা নিচে থেকে বলল, মোল্লা তুমি একটু নিচে নেমে এসো, একটা জরুরি কথা বলার ছিল।
কাজে ব্যাঘাত হবে বলে ইচ্ছে না থাকলেও মোল্লা জরুরি কথা শুনতে নিচে নেমে এসে বললেন, বলো ভাইজান, তোমার সেই জরুরি কথাটা।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
বাংলা ব্লগ জগতের সিন্ধুতে আমরাও একটা বিন্দু। নেট ঘেঁটো বাঙালির আপ্যায়ণে বড় হচ্ছে।